সুস্বাস্থ্যে ঘুমের প্রয়োজনীয়তা
ঘুম জীবনের এমন একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ যেটা ছাড়া বেচে থাকা সম্ভব না। ঘুম আমাদেরকে নতুন করে কাজ করার শক্তি দেয়। একজন মানুষের কতটুকু ঘুমের প্রয়োজন?
সাধারণত অনেকে দিনে ৮ ঘণ্টা ঘুমোনোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন। বিশেষজ্ঞদের মতে বয়স, শারীরিক অবস্থা, কাজকর্ম সহ একাধিক বিষয়ের উপরে নির্ভর করে ঘুমোনোর সময় নির্ধারণ করা উচিৎ।
এক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ঘুমের সময় হওয়া উচিৎ ৭-৯ ঘণ্টা, ৬৫ বছরের উপরের মানুষের ঘুমের সময় ৭-৮ ঘণ্টা, শিশুদের ক্ষেত্রে ঘুমের সময় প্রায় ১৭ ঘণ্টা।
শরীর ও মস্তিষ্ককে সতেজ রাখতে পর্যাপ্ত ঘুমের কোন বিকল্প নেই।
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে অনেক ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে -
১.ডায়াবেটিসের মাত্রা বাড়তে পারে।
২.হৃদরোগের প্রবণতা বাড়ে।
৩.স্নায়ুরোগের হতে পারে।
৪.অনিদ্রা মানসিক উদ্বেগ এমনকি অবসাদ পর্যন্ত হতে পারে।
৫.অনিদ্রা চুল ও ত্বকের উপরেও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, চুল পড়ার পরিমাণ বেড়ে যায়।
৬.ত্বকে নানা ধরনের ডার্ক সার্কেলসহ একাধিক সমস্যা হতে পারে
তাই নিয়ম মতো পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি।
গভীর ঘুমের উপকারিতা
সু্স্বাস্থ্যের জন্যে ঘুম অপরিহার্য । ঘুমের মধ্যে মস্তিষ্কের কোষগুলো বিশ্রাম পায়, তখন ব্রেনের টিস্যুগুলো রিপেয়ার হয়। ঘুম মস্তিষ্ককে সতেজ রাখে।
পর্যাপ্ত ঘুমে স্মৃতিশক্তি এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ে।
সারাদিনে শারিরীক ক্ষয়ক্ষতির পুরণ হয় ঘুমের মধ্যে। পর্যাপ্ত ঘুমের মাধ্যমে ইনসুলিনের উৎপাদন বেড়ে যায় এবং রক্তের অতিরিক্ত শর্করা বার্ন করে।যার ফলে ডায়াবেটিস হবার সম্ভাবনা কমে যায়।
পর্যাপ্ত ঘুম হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখে যার ফলে রক্তপ্রবাহ সঠিকভাবে পরিচালিত হয়। সঠিক মাত্রার ঘুমের ফলে শারীরিক কাজ করার সামর্থ্য বেড়ে যায়। রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বেড়ে যায়।
ঘুম আসার উপায় :
যাদের রাতে সহজে ঘুম আসতে চায় না তাদের জন্য করণীয়-
১. প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস করুন
২. সঠিক সময়ে খাবার খান
৩. সন্ধ্যার পর চা কফি পানে বিরত থাকুন
৪. নিয়মিত শরীরচর্চা করুন
৫. ঘুমানোর আগে বই পড়ার অভ্যাস করুন
৬. শুধু মাত্র ঘুমানোর সময় বিছানায় যাবেন
৭. রাতের খাবার ঘুমাতে যাওয়ার ২-৩ ঘন্টা আগে সেরে ফেলুন।
৮. উষ্ণ দুধ পান করুন
৯. দুশ্চিন্তা করবেন না।
১০. বিছানাতে শুবার পর মোবাইল ব্যাবহার করবেন না।

Comments
Post a Comment